
ইউক্রেন পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়া। রাশিয়া-১ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এক রুশ কমান্ডার এই দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে ইউক্রেন বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাক্ষাৎকারে ‘সেভার’ নামের ওই রুশ কমান্ডার বলেন, ইউক্রেনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এফ-১৬ যুদ্ধবিমানটি তার ইউনিটের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটিকে লক্ষ্য করে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানটিকে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি চূড়ান্ত আঘাত হানে। সেভার বলেন, অভিযানের প্রস্তুতিতে দীর্ঘ সময় লেগেছে এবং তারা বিমানটির গতিবিধি আগেই নজরে রেখেছিলেন।
রুশ কমান্ডার আরও বলেন, “শত্রুপক্ষ গর্ব করে বলেছিল এই বিমানগুলো ধ্বংস করা যাবে না। কিন্তু অন্যগুলোর মতোই এটি আকাশ থেকে পড়ে গেছে।” তবে ঠিক কবে এবং কোন এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময় বা স্থান উল্লেখ করেননি।
এদিকে, একই দিনে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রোববার কাস্পিয়ান সাগরে অবস্থিত রাশিয়ার তিনটি তেল উত্তোলন স্থাপনায় হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
এছাড়া রাশিয়ার ভোরোনেজ শহরেও ইউক্রেন ড্রোন হামলা চালায়। ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার গুসেভ জানান, ওই হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, শহরের আকাশে একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও হতাহতের ঘটনা এড়ানো যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে এফ-১৬ মোতায়েনের পর আকাশযুদ্ধের মাত্রা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ায় সংঘাত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে বলে মনে করছেন তারা।