
নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসরাইল ও জার্মানি। রোববার (স্থানীয় সময়) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বার্তা সংস্থা মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়, চুক্তিতে ইরান ও তার মিত্রদের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড এই চুক্তিতে সই করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান এবং তার মিত্র সংগঠনগুলো—বিশেষ করে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইয়েমেনভিত্তিক হুথিরা—শুধু ইসরাইল নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তি ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি জার্মানির ‘গভীর ও অটল অঙ্গীকারের’ প্রতিফলন। চুক্তির আওতায় সাইবার প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে বিস্তৃত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ। গাজা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে জার্মানি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, কৌশলগত নিরাপত্তা ইস্যুতে তারা ইসরাইলের পাশে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গাজা যুদ্ধের কারণে গত বছরের আগস্টে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল জার্মানি। সে সময় বার্লিন যুক্তি দিয়েছিল, তাদের রপ্তানি করা অস্ত্র গাজায় চলমান যুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে নতুন এই চুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জার্মানি ও ইসরাইলের সামরিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরাইলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হলো জার্মানি। ফলে এই চুক্তিকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে জার্মানির অবস্থান স্পষ্ট করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরাইল–জার্মানির এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানকে কূটনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে পারে এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।