
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর কিউবার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে চীন। বেইজিং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কিউবার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, সোমবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মার্কিন অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
মাও নিং বলেন,
“আমরা আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার বিরুদ্ধে অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং বলপ্রয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে।”
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, কিউবা আর ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিংবা কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পাবে না। ট্রাম্প লেখেন, “কিউবায় আর কোনো তেল বা টাকা যাবে না—শূন্য।”
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতৃত্বকে নিরাপত্তা সেবা দেওয়ার বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে কিউবা বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থ পেয়ে আসছিল। তবে এখন সেই ব্যবস্থার অবসান ঘটানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে জড়িত অনেক কিউবান নিহত হয়েছেন। তার ভাষায়, ভেনেজুয়েলার আর এমন কোনো গোষ্ঠীর সুরক্ষার প্রয়োজন নেই, যারা দেশটিকে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি করে রেখেছিল।
অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল দেশটির চলমান গভীর অর্থনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চাপ ও অবরোধের মুখেও কিউবা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকে রয়েছে।
দিয়াজ-ক্যানেল জোর দিয়ে বলেন, কোনো বহিরাগত শক্তি কিউবার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–কিউবা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।