
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করতে সারা দেশে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে নবনিয়োগপ্রাপ্ত উপজেলা প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকা মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং ২৬ ও ২৭তম ব্যাচ (পুরুষ) রিক্রুট সিপাহী মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সারা দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন অস্ত্রধারী, ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি কেন্দ্রের ৩ জন অস্ত্রধারী সদস্যের একজন নির্বাচনকালীন সময়ে প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্বে থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যারা প্রয়োজনে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে। নতুন প্রশিক্ষণ নীতিমালার আওতায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি সদস্য ও সদস্যা এবং ৩ হাজারেরও বেশি আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে দুর্বল করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। কোনো আনসার সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইনই ভঙ্গ করে না—রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।
তিনি বলেন, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয় বা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়। তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না।
সাহসের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়; সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া এবং ন্যায় ও সততার পথে অটল থাকা। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে আনসার সদস্যদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ভারপ্রাপ্ত কমান্ডেন্ট নুরুল আফছার, গাজীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে কুচকাওয়াজে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য চারজন চৌকস প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।