
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরিফ লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। তিনি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আব্দুল আজিজের ছেলে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় সাত বিষয়ে ফেল করায় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গত ৬ জানুয়ারি সকালে আরিফ বিদ্যালয়ে এসে পরীক্ষায় বসার অনুমতির জন্য শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজ তার কাছে টেস্ট পরীক্ষার ফল জানতে চাইলে তিনি সাত বিষয়ে ফেল করার কথা স্বীকার করেন।
স্কুল সূত্রের দাবি, এরপর আরিফ শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে বলেন, তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিলে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা অন্য কোনো শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় বসতে পারবে না। একপর্যায়ে তিনি বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। ওই সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। এরপর গত ৮ জানুয়ারি লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এডহক কমিটির সভাপতি অরুপ রতন সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় কমিটির সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরিফসহ মোট ১৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন,
“১৬ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কে নেতৃত্ব দিয়েছে, কে সহযোগিতা করেছে কিংবা কে অনুসরণ করেছে—এসব বিষয় যাচাই করে শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হবে। এতে যেন কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
স্কুল প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত নিয়মকানুন মানতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।