
নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে দুই বছরের জন্য ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা পরিচালনাসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্ট মাসে বাংলা বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আনেন। এর কিছুদিন পর অন্য একটি বিভাগের আরেক নারী শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিযোগ করেন।
এই দুটি অভিযোগের তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত শেষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটি গত ২৬ ডিসেম্বর পৃথক দুটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনগুলো ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪তম সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন ও গৃহীত হয়।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী একটি অভিযোগ থেকে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে অপর অভিযোগে প্রমাণ পাওয়ায় আগামী দুই বছর তাকে বাংলা ডিসিপ্লিনে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ ও অন্যান্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি রোববার লিখিতভাবে তাকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ সময় অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, তবে কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পেয়েছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা অনুযায়ী অভিযোগ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।