
ইরানে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইরানের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রেসিডেন্টকে একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, বিদেশি ‘শত্রুরা’ দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে এবং জনগণকে তথাকথিত ‘শত্রু চক্রান্ত’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের গোয়েন্দা শাখা ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১০০ জনকে ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে আটক করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে তার অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক বার্তায় তিনি ইরানের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনে ‘সহায়তার জন্য প্রস্তুত’। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হয়, তবে মার্কিন বাহিনী ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’— অর্থাৎ সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরান সরকার ইন্টারনেট সীমিত করা, ব্যাপক ধরপাকড় ও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অভিযান চালাচ্ছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রভাব দেশটির সীমানা ছাড়িয়েও পড়ছে। লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইরানে চলমান সহিংসতা বন্ধ এবং মানবাধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান এবং ট্রাম্পকে দেওয়া সামরিক ব্রিফিং—এই তিনটি বিষয় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।