
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের পদ্ধতি, ব্যালট ও তাৎপর্য স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, গণভোটের মার্কা নিয়ে অনেকের বিভ্রান্তি রয়েছে। এর সহজ উত্তর হলো—গণভোটের মার্কা হচ্ছে টিকচিহ্ন। যারা ‘হ্যাঁ’ বলতে চান, তাদের ওই টিকচিহ্নে ভোট দিতে হবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলসপার্ক মাঠে আয়োজিত গণভোট বিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গণভোটের বিষয়ে প্রচার এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
আলী রীয়াজ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, মতপার্থক্য ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটবে সাদা রঙের ব্যালটের মাধ্যমে। আর গণভোটের জন্য থাকবে আলাদা গোলাপি রঙের ব্যালট। দুটি ব্যালটের উদ্দেশ্য ভিন্ন—একটি প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য, অন্যটি সরাসরি জনগণের মতামত জানার জন্য।
তিনি বলেন, “অতীতে যে সব গণভোট হয়েছে, সেখানে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পরে জনগণের কাছে সম্মতি চাওয়া হয়েছে। এবার সেই ধারার পরিবর্তন ঘটছে। এবার আগে জনগণের সম্মতি চাওয়া হচ্ছে, তারপর সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটাই এবারের গণভোটের মৌলিক পার্থক্য।”
গণভোটের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, “আপনিই প্রথম, তারপর আপনার প্রতিনিধি। আপনাকে ছাড়া আপনার প্রতিনিধি নয়।” অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক সিদ্ধান্তে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই গণভোটের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের হাতে একটি চাবি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই চাবি দিয়ে ভবিষ্যতের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দরজা খুলে সামনে এগিয়ে যেতে হলে দলমত, রাজনৈতিক বিভাজন ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে রেখে রাষ্ট্র গঠনের বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে আনতে হবে।
আলী রীয়াজ বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা যে রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই গণভোট সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।”
বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন। সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।