
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি প্রচারণা চালাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই এবং এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লিগ্যাল অপিনিয়ন নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে। এ বিষয়ে সরকার লিগ্যাল অপিনিয়ন নিয়েছিল। দেশের শীর্ষস্থানীয় লিগ্যাল এক্সপার্টরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন—এই সরকার “হ্যাঁ”র পক্ষে ভোট চাইতে পারে। এতে কোনো আইনি বাধা নেই।’
তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন—নির্বাচন কমিশনসহ সব সংস্থা গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ইইউ বড় আকারের একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে জানিয়েছে। এর আগে তারা কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি, কারণ তাদের মূল্যায়নে আগের তিনটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ছিল না।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে বর্তমানে ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান। সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না।’
নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পতিত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন মিসইনফরমেশন ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এসব মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, নারী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভোট নিয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মূল্যায়নে নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি ভালো আছে। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি হত্যাকাণ্ড ঘটছে, তবে প্রতিটি ঘটনাই সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।