
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) করা আপিল গ্রহণের মাধ্যমে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে তাঁর আপিল মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন, ফলে ওই আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
শুনানি শেষে মাহমুদুর রহমান মান্নার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কমিশন সব দিক বিবেচনায় নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।
এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন মান্না। আপিল শুনানি শেষে কমিশন তাঁর পক্ষে রায় দেন।
নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তিনি এর আগেও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। তাঁর ভাষায়, তাঁকে ঘিরে যে বিরোধিতা ও তথাকথিত ‘মবক্রেসি’ তৈরি করা হয়েছিল, তা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতির চাপে জেলা প্রশাসক বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোই সমীচীন মনে করেছিলেন। অন্যথায় তাঁর মনোনয়ন বাতিলের কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করে মান্না বলেন, কমিশন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডাকসুর দুবারের নির্বাচিত ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নাগরিক ঐক্য গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। অতীতে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হতে পারেননি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন। জোটের সমঝোতার অংশ হিসেবে মিত্রদলের নেতা হিসেবে বগুড়া-২ আসনটি তাঁর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র আগেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দুটি আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছেন।