
কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের মতোই জঘন্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যেভাবে জামায়াত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হেয় করার চেষ্টা করছে, তা অতীতের আওয়ামী লীগের দমননীতিকেও হার মানায়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গুরা সীমানারপাড় এলাকায় ‘মরহুম হাজী রুহুল আমিন ও হাজী মোমেনা বেগম ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কায়কোবাদ।
বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াত দাবি করে তারা আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু ধর্মের নামে যদি মানুষের ক্ষতি করা হয়, মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হয় কিংবা সম্মানহানি করা হয়—তাহলে তা ইসলামের শিক্ষা হতে পারে না। তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।
কায়কোবাদ আরও বলেন, মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও অপবাদ রটানো ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যারা এসব কাজে জড়িত, তারা কখনোই আদর্শ মুসলমান হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের মতো জামায়াতে ইসলামীও অপপ্রচার ও কুৎসা রটিয়ে বিএনপিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ এসব অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে এবং গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে বিএনপি বিজয়ী হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিক। শ্রমিক নেতা গোলাম মোস্তফা ও পল্লী চিকিৎসক জাকির হোসেন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কায়কোবাদের ছোট ভাই কাজী জুন্নুন বসরী।
প্রতিযোগিতায় মুরাদনগর উপজেলার ৩৮টি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কয়েক ধাপের বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বে ২০টি মাদরাসার হাফেজ অংশগ্রহণ করেন। পাঁচ পারা ও দশ পারা—এই দুই ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা হাফেজ বেলাল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী তাহমিনা আক্তার মিনাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী জুন্নুন বসরী বলেন, কোরআনের হাফেজরা দেশ ও জাতির সম্পদ। এ ধরনের প্রতিযোগিতা ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিযোগিতা শেষে দুই ক্যাটাগরিতে সেরা ছয়জন বিজয়ীর হাতে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।