
ঢাকার বাইরে বগুড়ায় প্রথমবারের মতো সফলভাবে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার। শুক্রবার বিকেলে বগুড়ার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেন্টারটির পক্ষ থেকে এ সাফল্যের কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় টিএমএসএস হেমাটোলজি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে একটি বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সেন্টার সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ভান্ডাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী মো. মিজানুর রহমান প্রথম রোগী হিসেবে সেখানে ভর্তি হন। তাঁর রোগটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তীতে একই বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁর জন্য স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টের সিদ্ধান্ত নেন।
এই চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মিজানুর রহমানকে বগুড়ার টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহর তত্ত্বাবধানে সেখানে তাঁর বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
রোগী মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তি ও ব্যয়ের চাপের কারণে একসময় চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। তবে টিএমএসএসে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় সফলভাবে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হওয়ায় তিনি নতুন করে সুস্থ জীবনের আশা দেখছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএসের উপনির্বাহী পরিচালক মো. মতিউর রহমান, টিএমএসএস হেমাটোলজি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।
মো. মতিউর রহমান বলেন, ঢাকার বাইরে এবং বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর মতে, এটি শুধু টিএমএসএসের সাফল্য নয়, বরং পুরো উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
অধ্যাপক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ জানান, এই সাফল্যের ফলে উত্তরবঙ্গসহ আশপাশের অঞ্চলের রোগীরা রাজধানীতে না গিয়ে তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।