
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ভারতের প্রভাব ও আধিপত্য থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পারছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তাঁর মতে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কণ্ঠ আরও স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী হয়েছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীরোনামে আয়োজিত এক পলিসি ডায়ালগে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সব অর্জন উপেক্ষা করে কেবল ব্যর্থতার কথা বললে সেটি সৎ সমালোচনা থাকে না। তাঁর ভাষায়, সরকার যদি দশটির মধ্যে চারটি কাজ করে থাকে, সেই চারটি স্বীকার না করে শুধু বাকি ছয়টি নিয়ে আক্রমণ করলে তা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু একটি বিষয় কি একেবারেই অদৃশ্য—ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এখন স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলতে পারছে। তাঁর মতে, এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, যা অস্বীকার করা যায় না।
বাক্স্বাধীনতার প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে কথা বলার স্বাধীনতা সবার আছে, শুধু সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নেই—এমন অনুভূতি তিনি নিয়মিতই পান। তিনি জানান, সমালোচনা অনেক সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুৎসার পর্যায়ে চলে যায়।
সাইবার বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি নিজেই। তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিডিও তৈরি, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবাদ খুব কমই দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন আইন উপদেষ্টা।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের অন্তত তিন থেকে চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। টানা আক্রমণ, কটূক্তি, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং প্রাণনাশের হুমকির কারণে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তাঁরা দায়িত্বে থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আসিফ নজরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা মনে করিয়ে দিয়েছেন—এটি একটি টিমের কাজ। একজন সরে গেলে অন্যদের মনোবল ভেঙে পড়বে এবং কাজ এগোনো কঠিন হয়ে যাবে। তাই সব চাপ সত্ত্বেও তাঁরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সময় এলে সব প্রশ্নের জবাব দেওয়া হবে এবং দেশের মাটিতেই থেকে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।
পলিসি ডায়ালগে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান। আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া এবং ইরাবতীর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. মুকতাদির রশীদসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।