
সাপ্তাহিক ছুটিতে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। জিরো পয়েন্ট, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাঁকড়ার চড়সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভিড়ের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতজুড়ে পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
পর্যটকদের উপস্থিতিতে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, মার্কেটসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। অনেক পর্যটক পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে পিকনিক পার্টিতে অংশ নিচ্ছেন। কেউ সমুদ্রের ঠান্ডা পানিতে পা ভিজিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ ঘোড়াসহ বিভিন্ন বাহনে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে দেখছেন। আবার অনেকে সৈকতের বেঞ্চিতে বসে ঢেউয়ের ওঠানামা উপভোগ করছেন।
ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পর্যটক আনোয়ার হোসেন বলেন, বছরে এক-দুবার ভ্রমণের সুযোগ পেলেও কুয়াকাটাই তাঁদের পরিবারের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য। তাই সুযোগ পেয়ে তাঁরা পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন।
আরেক পর্যটক লামিয়া আলমাস জানান, সকালে কুয়াশার কারণে সূর্যোদয় দেখা না গেলেও বিকেলে পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের দৃশ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছে। কুয়াকাটার বিভিন্ন স্পট ঘুরে তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ভালো লেগেছে বলেও জানান তিনি।
গ্রিন ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন রাজু বলেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে পর্যটননির্ভর মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নিরাপত্তা বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সৈকত ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।