
টানা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। দেশের বিভিন্ন শহরে চলমান এই আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানি বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, যা অভূতপূর্ব। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!” তার এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে ভয়াবহ বিক্ষোভ শুরু হয়। মূলত দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রমাবনত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রথম বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়। পরে তা দ্রুত দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমননীতিতে যাওয়ায় হতাহতের খবরও পাওয়া যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে পশ্চিমা দেশগুলো।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, চলমান অস্থিরতার কারণে ইরান “বড় বিপদের” মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার না করতে ইরানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, বিদেশি শক্তি ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নাশকতাকারী ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিচার বিভাগ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থনের বার্তা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।