
ভারতের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণে নিজের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট রি-শেয়ার করে তিনি বলেন, ভারতের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য স্টারলিংক সহায়ক হতে পারে।
রি-শেয়ার করা পোস্টে ভারতের ইন্টারনেট অবকাঠামোর অগ্রগতির পাশাপাশি এখনো অনেক গ্রামের সংযোগ ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পোস্টটির দাবি অনুযায়ী, ভারতে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন থাকলেও ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামে এখনো ৪জি সংযোগ নেই।
ভারতের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দিতে দেশটির ‘ভারতনেট’ প্রকল্পও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ ৫০ হাজার রুট-কিলোমিটারের বেশি ফাইবার এবং ৮০ হাজার ৪৭২টি সচল গ্রাম পঞ্চায়েত পয়েন্ট অব প্রেজেন্স থাকার তথ্য পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ফাইবার কেবলের ওপর নির্ভর না করেই সংযোগ দিতে পারে। ফলে দুর্গম ও অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও এ ধরনের সেবা কার্যকর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
ভারতে স্টারলিংক টেলিকম লাইসেন্স পেলেও বাণিজ্যিকভাবে ব্রডব্যান্ড সেবা চালুর আগে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
এদিকে ভারতে স্টারলিংকের সম্ভাব্য প্রবেশ নিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসএনএলসহ অন্যান্য টেলিকম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় টেলিকম প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্রশেখর বলেছেন, ভারতে স্টারলিংকের সর্বোচ্চ ২০ লাখ গ্রাহক হতে পারে এবং এর ইন্টারনেট গতি সর্বোচ্চ ২০০ এমবিপিএস পর্যন্ত হতে পারে। তার মতে, এতে প্রচলিত টেলিকম সেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
তবে স্টারলিংকের সীমিত সক্ষমতা ও তুলনামূলক বেশি খরচ এর বিস্তারের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক সেবা চালু রয়েছে। ভারতেও বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।