
মূল্যস্ফীতির প্রভাবে সরকারি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জুলাইয়ে অপ্রত্যাশিত বাজেট ঘাটতিতে পড়েছে ব্রিটেন। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে সরকারের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮০ কোটি পাউন্ড।
অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, জুলাইয়ে ব্রিটিশ সরকারের আয় ও ব্যয় প্রায় সমান থাকবে। বাজেট দায়বদ্ধতা কার্যালয় (ওবিআর) বরং ৫০ কোটি পাউন্ড বাজেট উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে করোনাভাইরাস মহামারির আগের সময়ের পর কোনো জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো বাজেট উদ্বৃত্ত অর্জন করত ব্রিটেন।
কিন্তু বাস্তবে সরকারি ব্যয় প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক সুবিধা খাতে ব্যয় বেড়েছে ২০০ কোটি পাউন্ড। একই সময়ে পণ্য ও সেবা খাতে ব্যয় বেড়েছে ১২০ কোটি পাউন্ড। সরকারি কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয়ও এর মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত আয়কর থেকে জুলাইয়ে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেছে সরকার। তবে ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধি বাড়তি রাজস্বের সুফলকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাজেট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৬৭০ কোটি পাউন্ড। এ সময়ে ওবিআরের পূর্বাভাস ছিল ৫৪৪০ কোটি পাউন্ড। অর্থাৎ প্রকৃত ঋণ পূর্বাভাসের চেয়ে ২৩০ কোটি পাউন্ড বেশি হয়েছে।
তবে একই সময়ে সরকারের বর্তমান বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৪৭০ কোটি পাউন্ড, যেখানে ওবিআরের পূর্বাভাস ছিল ৩৬৭০ কোটি পাউন্ড। বর্তমান আর্থিক নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে এই ঘাটতি ভারসাম্যে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও অর্থমন্ত্রী জন হিলির জন্য এসব পরিসংখ্যান আর্থিক ব্যবস্থাপনার চাপকে আরও স্পষ্ট করেছে। আগামী অক্টোবরের বাজেট প্রস্তুত করছেন অর্থমন্ত্রী হিলি। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এখন তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
জন হিলি জানিয়েছেন, সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকবে আর্থিক শৃঙ্খলা। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।