
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবসায়ী রহমত আলী তালুকদারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত নারী রুবিয়া খাতুনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে ধুনট উপজেলার জোলাগাতী গ্রামের মাজার এলাকা থেকে রুবিয়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত জুব্বার সেখের স্ত্রী।
নিহত রহমত আলী তালুকদার একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ফোরহাদ হোসেনের ছেলে এবং এলাকায় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর একজন পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রামের একটি সামাজিক বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে সালিশ বৈঠকে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করেন রহমত আলী। সম্প্রতি একই গ্রামের মৃত জুব্বার সেখের পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে তিনি একটি সালিশ বৈঠক আয়োজন করেন। তবে ওই বৈঠকে প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার জেরে রহমত আলীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রুবিয়া খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার দিন ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রহমত আলী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে রুবিয়া খাতুনের বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছালে তিনি ও তার সহযোগীরা রহমত আলীকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ২টার দিকে রহমত আলীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কহিনুর খাতুন বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ধুনট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রুবিয়া খাতুন, তার ছেলে জুয়েল সেখসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী জানান, মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।