
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তরা যদি বিদেশে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন সম্ভাবনাময় তরুণের এভাবে প্রাণ হারানো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হওয়া সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তরা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলতা ও সক্ষমতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাদির হত্যার অভিযুক্তরা দেশের ভেতরে না বাইরে—এ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তাঁর মতে, যদি অভিযুক্তরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা অন্য কোনো দেশে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আইনের মুখোমুখি করা।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, কেবল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব নয়। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হবে এবং রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।
একজন শহীদের রক্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান বিন হাদির আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সে জন্য রাষ্ট্রকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পোস্টের শেষাংশে শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও প্রশাসন জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক পরিণতি নিশ্চিত করা সম্ভব।