
গরমের দিনে বাড়ির আশপাশে সবুজ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে গাছের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বড় গাছের ছায়া সরাসরি রোদের তাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পাতার বাষ্পীভবন ও বাতাস চলাচলের মাধ্যমে বাড়ির আশপাশের পরিবেশ তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে। আবার কিছু গাছের ফুল ও ফল পাখিদের আকৃষ্ট করে।
বাড়ির আঙিনা, বাগান কিংবা খোলা জায়গায় পরিকল্পনা করে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো যেতে পারে। এর মধ্যে নিমগাছ দ্রুত বেড়ে ঘন ছায়া তৈরি করতে পারে এবং গরম আবহাওয়ায় টিকে থাকার ক্ষমতাও ভালো। বড় জায়গা থাকলে বটগাছও বিশাল ছাউনি তৈরি করে। এর ফল বিভিন্ন পাখির খাবার হওয়ায় পাখির আনাগোনাও দেখা যেতে পারে।
দ্রুত বেড়ে ওঠা কদমগাছ বর্ষাকালে গোলাকার হলুদ ফুলে পরিবেশকে আকর্ষণীয় করে তোলে। বুঙ্গা গাছও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক বছরের মধ্যে ছায়া দিতে পারে। এর পাতা প্রাকৃতিক সার তৈরিতে কাজে লাগে এবং বীজ থেকে তেল পাওয়ার ব্যবহারও রয়েছে।
ফলদ গাছের মধ্যে আম, জাম ও কাঁঠাল বাড়ির বাগানের জন্য উপযোগী হতে পারে। আমগাছ ও জামগাছ বড় হয়ে ঘন ছায়া দেয় এবং ফলের কারণে পাখির আনাগোনা বাড়তে পারে। কাঁঠালগাছের ঘন পাতাও ভালো ছায়া তৈরি করে। তুলনামূলক ছোট জায়গায় পেয়ারাগাছ লাগানো যেতে পারে; এর ঘন পাতায় সবুজ পরিবেশ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ফল বিভিন্ন পাখিকে আকৃষ্ট করতে পারে।
অন্যদিকে কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া তাদের বিস্তৃত ডালপালা ও আকর্ষণীয় ফুলের কারণে বাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে পারে। কৃষ্ণচূড়া প্রশস্ত ছাউনি তৈরি করে ভালো ছায়া দেয়, আর রাধাচূড়ার হলুদ ফুল বাড়ির চারপাশে নান্দনিকতা যোগ করে।
তবে বড় গাছ বাড়ির একেবারে গা ঘেঁষে লাগানো উচিত নয়। ভবনের ভিত্তি, বৈদ্যুতিক তার এবং গাছের শিকড় ও ডালপালার বিস্তার বিবেচনা করে উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। গাছ ঘরের তাপমাত্রা সরাসরি অনেকটা কমিয়ে দেয়—এমন নয়; বরং ছায়া, বাষ্পীভবন ও আশপাশের পরিবেশের ওপর প্রভাবের মাধ্যমে গরমের অনুভূতি কমাতে সহায়তা করে।