
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচনের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সিইসি জানান, ভোটগ্রহণ বা সংসদের অধিবেশন কক্ষে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না। তবে ভোটাররা কে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে প্রকাশ্য থাকবে। কারণ ব্যালট পত্রে প্রার্থী ও ভোটারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সমন্বয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান সিইসি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের নামে দুটি এবং বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে একই প্রার্থীর দুটি মনোনয়নপত্রের একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় চূড়ান্তভাবে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থীই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
সিইসি জানান, সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। মোট ভোটার ৩৪৯ জন। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ভোট শেষে বিকেল ৫টার পরপরই গণনা শুরু হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করবেন সিইসি।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন ও ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভিআইপি ভোটারদের ভোটদান এবং ফলাফল গণনার অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুরো গণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে বলেও জানান তিনি।
সংসদ ভবনের অভ্যন্তরের পরিবেশ ও বিধিমালা বজায় রাখার দায়িত্ব স্পিকারের বলে উল্লেখ করেন সিইসি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে অতিরিক্ত বা বিপুল অর্থ ব্যয়ের খবরকে গুজব বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশনের বড় ধরনের কোনো অতিরিক্ত বাজেট তৈরি হয়নি বলেও জানান সিইসি।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশ-বিদেশের নজর এই নির্বাচনের দিকে রয়েছে উল্লেখ করে এ এম এম নাসির উদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।