
রাজধানীর ভাটারা থানার একটি ফ্ল্যাটে ১৫ আগস্ট সামনে রেখে গোপন বৈঠক ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫২ জনের মধ্যে ১৫ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান ১৫ আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলেন যুবলীগ নেতা মোত্তালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা, যুবলীগ নেতা মো. রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, মো. রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, মো. সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান ও শাহীন হোসেন ইমন। তারা নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসলাম মিয়া রাকিব রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ও তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ভাটারা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সেখানে কয়েকজন একত্রিত হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযানে তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১৫ আগস্টের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের লেখা সংবলিত তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও আয়োজনের অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়।