
ইতিহাসের রেকর্ডভাঙা তাপদাহ ও তীব্র খরায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ব্রিটেনের কৃষি খাত। জুন ও জুলাই মাসের অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইংল্যান্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা খরাকবলিত হয়েছে। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার কারণে শস্য ও গবাদিপশুর ক্ষতি বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খাদ্য সরবরাহ ও বাজারেও।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য নতুন আশার জায়গা তৈরি করেছে প্রাকৃতিক বা ‘পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি’ পদ্ধতি। দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডের কৃষক স্যাম স্কুইয়ারের ২০০ একরের গরুর খামারটি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। আশপাশের জমি তীব্র তাপ ও খরায় শুকিয়ে গেলেও তাঁর খামার সেচ ছাড়াই সবুজ রয়েছে।
স্কুইয়ার কৃত্রিম সারের পরিবর্তে গভীর শিকড়যুক্ত লতাগুল্ম ও শিমজাতীয় উদ্ভিদের মিশ্রণ বা ‘হার্বাল লে’ ব্যবহার করছেন। এতে মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা এবং প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। ফলে খরার মধ্যেও খামারে পশুখাদ্য ও প্রাকৃতিক পুষ্টির জোগান বজায় থাকছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, তীব্র গরমে অনাবৃত জমির তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠলেও প্রাকৃতিক উদ্ভিদে ঢাকা জমির তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত থাকে। ফলে চরম তাপেও ফসল টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এই পদ্ধতিতে এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে বড় ব্যবসা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। ম্যাকডোনাল্ডস, নেসলে ও ম্যাককেইনের মতো প্রতিষ্ঠান কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই কৃষিতে অর্থায়ন ও সুবিধা বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি শুধু পরিবেশ রক্ষার উপায় নয়; দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের খরা, তাপদাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় আর্থিকভাবে আরও স্থিতিশীল হতে সহায়তা করতে পারে।