স্বামী তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর পর কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানিয়েছেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আদেশের ওপর নির্ভর করবে।
এর আগে তৌফিক নেওয়াজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে গত ২৭ মে দীপু মনিকে সাত দিনের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তাঁর মেয়ে তানি দীপাবলী নেওয়াজ। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে ওই আবেদন করা হলেও পরে এ বিষয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।
তৌফিক নেওয়াজ পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ধ্রুপদী সংগীতের চর্চাও করতেন। ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। গত ২৭ মে অসুস্থ অবস্থায় হুইল চেয়ারে করে কারাবন্দি স্ত্রী দীপু মনিকে দেখতে আদালতে নেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। সোমবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর জানাজা ও দাফনের স্থান ও সময় বুধবার দুপুরের পর নির্ধারণ করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে দীপু মনি হাইকোর্টে কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে আরো মামলা থাকায় এখনো মুক্তি পাননি। ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।