
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ আরো জোরদারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয়। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি তাঁর সরকারের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা ধীরগতিতে চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এবং সেই পরিচয় নিয়েই তাদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চীন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা শুরু হলেও এখনো সংকটের সমাধান হয়নি। সময়ের সঙ্গে মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ায় সংকটও ঘনীভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয় কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশের কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে। তবে আগের উদ্যোগগুলোও অব্যাহত থাকবে।