
বগুড়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) ভাঙা কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধারা ওই কার্যালয় দখল করে সেখানে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দুটি ব্যানার ঝুলানো হয়। একটি ব্যানারে গণভোটে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং অপর ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে এসব ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। এ সময় একদল লোক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে এসে ভবনের ভেতরে ও বাইরে ব্যানার টানিয়ে দেন।
ব্যানারগুলোর একটিতে লেখা ছিল—‘সংস্কার ও পরিবর্তন চাইলে হ্যাঁ এবং না চাইলে না-তে ভোট দিন’। পাশাপাশি লেখা হয়, ‘সংস্কারের চাবি আমাদের হাতে, দেশের চাবি আমাদের হাতে।’ অপর ব্যানারে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার ছবিসহ গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে নিজেকে এনসিপি নেতা পরিচয় দেওয়া নুর মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের দোসর। যদিও দলটি নিষিদ্ধ হয়নি, তবে তারা বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে।
জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধারা সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় সহসম্পাদক মো. নাহিদ বলেন, জাতীয় পার্টির এই কার্যালয় থেকেই তারা গণভোটের প্রচারণা চালাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এখানে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিলে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
জাতীয় পার্টির কার্যালয় বেছে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জাপা আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত। জাপা জেলা সভাপতি জিন্নাহর অনুসারীরা তাদের সংগঠনের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে এবং কয়েকজনকে ধাক্কাধাক্কিও করেছে। সে কারণেই তারা ওই কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন।
এনসিপির বগুড়া জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সহযোগী শক্তি। তারা ওই কার্যালয়ে আসার চেষ্টা করলে সাধারণ জনগণই প্রতিহত করবে। এখান থেকেই জুলাই যোদ্ধারা গণভোটের প্রচারণা চালাবে। তিনি আরও দাবি করেন, কার্যালয়টি জাতীয় পার্টির নামে লিজ নেওয়া নয়।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল কালবেলা জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। জাতীয় পার্টির কার্যালয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ও ১ আগস্ট—দুই দফায় জাতীয় পার্টির এই কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।