
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানির কার্যালয় এবং কুর্দি গোয়েন্দা সংস্থা পারাস্তিনের প্রধানের বাসভবনে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। সোমবার স্থানীয় সময় কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) এ অভিযোগ করেছে।
কেআরজি জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হামলার দায়ও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে কুর্দিস্তান অঞ্চলের সন্ত্রাসবিরোধী অধিদপ্তরের তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে ইরানই হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেছেন মাসরুর বারজানি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বারজানি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এটিকে ‘বেপরোয়া ও অগ্রহণযোগ্য’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের হামলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটানোর পাশাপাশি কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে।
বারজানি আরও বলেন, এ ধরনের হামলা কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারকে তার দায়িত্ব পালন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
তবে কুর্দিস্তান সরকারের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বারজানির কার্যালয়ে ড্রোন হামলার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাঘাই বলেন, ইরান হামলার নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে তেহরানকে দায়ী করার উদ্দেশ্যে হামলাটি সাজানো হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
ইরানি মুখপাত্রের দাবি, ইরাকি কর্মকর্তারা এর আগে বিদেশি কয়েকটি শক্তির সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন। এসব গোষ্ঠী ইরানকে দায়ী করার জন্য সাজানো হামলা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বাঘাই ঘটনাটি সতর্কতার সঙ্গে ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ইরান ও ইরাকের শত্রুরা দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ও তা আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কুর্দিস্তান অঞ্চলের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা এড়িয়ে চলা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।