
ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায় রাজউকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিম নামাবাড়ীর একটি প্লটে মিসেস সামিরার নির্মাণাধীন বাড়ি নিয়ে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজউকের পরিদর্শক আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গত ১৬ জুলাই রাজউকের জোন-৫-এর অথোরাইজড অফিসার-৫/৩ মো. রকিবুল হাসান স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে ওই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, রাজউকের মহাপরিকল্পনাভুক্ত এলাকার আওতাধীন মৌজা-জিঞ্জিয়া, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওই প্লটে ইমারত বা অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরুর ১৫ দিন আগে ৩০৭ নম্বর ফরমের মাধ্যমে রাজউককে অবহিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
এ ছাড়া নির্মাণকাজের সমর্থনে রাজউক অনুমোদিত নকশা ও অনুমোদনপত্র সাইটে সংরক্ষণ করা হয়নি এবং ভবনের দৃশ্যমান স্থানে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ডও নেই বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ৩ ধারা অনুযায়ী নির্মাণাধীন ভবনটি কেন অবৈধ ঘোষণা করে অপসারণের আদেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাইটে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে রাজউকের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও সরেজমিনে নির্মাণকাজ চলমান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নিষেধাজ্ঞা জারির পরও ওই প্লটে বাড়ি নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে থাকা রাজউকের পরিদর্শক আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ করা হয়েছে, সুবিধা নিয়ে তিনি নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজউকের পরিদর্শক আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজ তদারকি করা সম্ভব নয়। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, নির্মাণাধীন বাড়ির মালিক মিসেস সামিরার বক্তব্য নিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।