
কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের দেওয়া এই প্রস্তাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যেই দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার কয়েকজন সেনা পূর্বাঞ্চলীয় অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনের (ডিএমজেড) সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণের দিকে এগিয়ে আসে। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা প্রথমে সতর্কবার্তা দেয় এবং পরে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ ও সতর্কবার্তা শুনে উত্তর কোরিয়ার সেনারা নিজেদের সীমানায় ফিরে যায়। চলতি বছরে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় এটিই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার ঘটনা।
এর মধ্যেই শনিবার কোরিয়ার জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দুই দেশের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান। তিনি ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তবে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমে লির বক্তব্য নিয়ে কোনো প্রতিবেদন বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। বরং দেশটির গণমাধ্যমে মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন আয়োজনের খবরই গুরুত্ব পেয়েছে।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়নি। ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থামলেও দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
এদিকে সীমান্ত উত্তেজনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নিয়েও উত্তেজনা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া এসব মহড়াকে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও সিউল মহড়াকে প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম হিসেবে দাবি করে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, শান্তি প্রস্তাবের পাশাপাশি সীমান্ত উত্তেজনা, পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক মহড়াকে ঘিরে দুই কোরিয়ার সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।