
ফেনী সীমান্তে সাম্প্রতিক পুশ ইন, চোরাচালান ও উত্তেজনা নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং ভারতের বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া আইসিপি এলাকায় এ বৈঠক হয়।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান। তাঁর সঙ্গে বিজিবির আরও পাঁচ কর্মকর্তা এবং ১৫ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ভারতের পক্ষে ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচ রবীন্দ্র মাদানির নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অবৈধ পারাপার প্রতিরোধ এবং মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে উভয় বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দুই বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সীমান্তে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হলে প্রথমে স্থানীয় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। ওই পর্যায়ে সমাধান সম্ভব না হলে বিষয়টি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ কোনো অবকাঠামো নির্মাণ না করার নীতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী জমি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকদের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে আইন নিজের হাতে না তুলে উভয় বাহিনীর সহযোগিতায় তা সমাধানের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সাম্প্রতিক পুশ ইন চেষ্টার বিষয়ে ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, এটি নিয়মিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পরিচয়পর্বের বৈঠক হলেও আলোচনার ফাঁকে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন নিয়ে বিএসএফকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে বিএসএফ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এর আগে গত ২৫ জুলাই পরশুরামের পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্ত দিয়ে সাতজন নারী ও শিশুকে এবং পরদিন ২৬ জুলাই কেতরাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে আরও এক নারী ও তিন শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। দুই ঘটনাতেই বিজিবির অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
ফেনী সীমান্তের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিজিবি-বিএসএফের এই বৈঠককে দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা, অবৈধ প্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে দুই বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।