
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক জোটের চূড়ান্ত আসন বণ্টন নিয়ে আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক আইভার্স ইজাবসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত জোটের আসন বণ্টন নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। জোটভুক্ত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে নির্বাচন পরিবেশ নিয়েও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আমরা এখনো আত্মবিশ্বাসী নই—এই বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে প্রশাসনের ভেতরে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মাঠপর্যায়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ঋণখেলাপি থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিভিন্নভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো না হওয়ায় রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার না হলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এসব উদ্বেগ তুলে ধরার পাশাপাশি দলটি মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জোটের আসন বণ্টন চূড়ান্ত হলে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।