
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে প্রায় ৭ হাজার টন ডিজেল। গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ধাপে ধাপে ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। এটি পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির ৬৮তম চালান।
এবার মোট ৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে, যা প্রায় ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ২৯০ লিটারের সমান। প্রতি টন ডিজেলের পরিমাণ ১ হাজার ১৭৬ দশমিক ৪৭ লিটার হিসেবে এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারত থেকে আমদানি করা ডিজেল প্রতিটি চালানে প্রায় সমহারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিন বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল।
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার। পাইপলাইনটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, সদর ও বোদা উপজেলা হয়ে নীলফামারী সদর এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা অতিক্রম করে পার্বতীপুরের রিসিভ টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
মাটির প্রায় ৫ থেকে ৮ ফুট গভীরে স্থাপন করা হয়েছে পাইপলাইনটি। এর মাধ্যমে সরাসরি ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে জ্বালানি পরিবহনে সময় কমার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহন উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করেছে। একই সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে জ্বালানি পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল আমদানি অব্যাহত থাকায় উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।