
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্যারেজ, চার্জিং পয়েন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ১০ থেকে ১২ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। এই হিসাব ধরে শুধু রিকশার ব্যাটারি চার্জ বাবদ প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। মাসে যার পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকার বেশি এবং বছরে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ঘিরে শুধু চার্জিং নয়, গ্যারেজে রিকশা রাখা, ভাড়া দেওয়া, ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ বিক্রি এবং মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছে। তবে এসব কার্যক্রমের বড় একটি অংশ সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ।
অনুসন্ধান ও পুলিশের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে অন্তত ৭৬০টি গ্যারেজে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখা ও চার্জ দেওয়া হয়। এসব গ্যারেজে প্রতিদিন বিপুল অর্থের লেনদেন হলেও এগুলোর কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রাজধানীর ভাসানটেক বাজার এলাকায় অনুসন্ধানে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রায় এক হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিটি রিকশা থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চালকদের দাবি, নির্ধারিত অর্থ না দিলে এলাকায় রিকশা চালাতে দেওয়া হয় না। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পুলিশের লাইনম্যানদের নামে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ব্যাটারি রিকশার গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। কোথাও আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে রিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডেসকোর পক্ষ থেকে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে রাজধানীর সড়কে এসব যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন চালু করা হলে একদিকে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসতে পারে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বাড়তে পারে।
এদিকে সড়ক নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব রিকশায় ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে এই খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে কার্যকর নিবন্ধন, লাইসেন্সিং, বিদ্যুৎ সংযোগের বৈধতা যাচাই এবং চাঁদাবাজি বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।