
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া থেকে খেসবা গ্রাম পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ইটের খোয়া, পাথর ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে না। এতে সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭২১ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু পাথরের আকার অস্বাভাবিক বড়। নির্ধারিত মান অনুযায়ী পাথর ভেঙে ব্যবহারের পরিবর্তে বড় আকারের পাথরই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। একজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, রেললাইনের কাজে ব্যবহৃত পাথরও এত বড় দেখা যায় না। এসব পাথরের উৎস ও গুণগত মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া ইটের খোয়া, পাথর ও বালুর মান যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কে ভাঙন, গর্ত ও ক্ষয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়তে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নাচোল উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার সাদিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বড় পাথর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে এ ধরনের বড় পাথর আমদানি হওয়ার তথ্য তাদের জানা নেই। কীভাবে এসব পাথর এসেছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে বড় পাথরগুলো ভেঙে ছোট করে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যবহৃত বড় পাথর তুলে ছোট করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির নির্মাণসামগ্রীর মান নিশ্চিত করতে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত ও উপকরণের গুণগত মান পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের নির্ধারিত মান বজায় রাখার দাবি তাদের।