
এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা দেওয়া রেকর্ড তাপপ্রবাহের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার গাংওন প্রদেশে অতিরিক্ত গরমে মাটির নিচেই আলু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অনেকেই জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ক্ষেতের ভালো আলু নরম হয়ে পচে গেছে। কোনো কোনো আলু সিদ্ধ আলুর মতো নরম হয়ে ভেঙে পড়ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় এবার গাংওন প্রদেশে প্রথমবারের মতো তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। আলুর পাশাপাশি বাঁধাকপি, আপেল, পিচ, তরমুজ ও স্ট্রবেরির মতো বিভিন্ন ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির ইয়াংসান শহরে গত ২ আগস্ট তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে, যা আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরুর পর দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
তীব্র গরমে শুধু ফসল নয়, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতও ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটিতে তাপপ্রবাহে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৯ লাখের বেশি গবাদিপশু এবং ১৪ লাখের বেশি চাষের মাছ মারা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাপান ও হংকংয়েও রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা গেছে। জাপানের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়েছে। হংকংয়ে তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। চীনের শিনজিয়াংয়েও জুলাইয়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা এসব ঘটনাকে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে যুক্ত করছেন। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন, খাদ্যদ্রব্যের দাম এবং কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়ার উষ্ণায়নের হার আগের ৩০ বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিজ্ঞানীরা গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি ও অন্যান্য খাতে কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।