
রাজধানীর চকবাজারের সোয়ারীঘাট এলাকায় একটি পলিথিন কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাবিবুল্লাহ (১৯) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে স্থানীয় তায়েবা এন্টারপ্রাইজ নামের ওই কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাবিবুল্লাহ ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার কোকাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শামসুল হকের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি চকবাজারের সোয়ারীঘাট এলাকায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি পলিথিন কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের ভাই অলিউল্লাহ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় কারখানাটির দ্বিতীয় তলায় সিলিং ফ্যান মেরামত করছিলেন হাবিবুল্লাহ। ফ্যানের তার জোড়া দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত পৌনে ৮টার দিকে হাবিবুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিলিং ফ্যানের বৈদ্যুতিক তার সংযোগ দেওয়ার সময়ই হাবিবুল্লাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তবে দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও কারখানায় বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সী এক শ্রমিকের এমন মৃত্যু কর্মক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কারখানা ও কর্মস্থলে বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামতের সময় প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।