
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে জাল নথি তৈরির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মন্ডল ও রফিকুল ইসলাম। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ও খাম ব্যবহার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সাত পাতার একটি ডকুমেন্ট পাঠানো হয়। ওই নথিতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছিল।
নথির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়। তদন্তে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পায় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চক্রটি সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তের অংশ হিসেবে মাদারীপুরের কালকিনি ও কুষ্টিয়া থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ঢাকার মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
গত ৫ আগস্ট ডিবির উপ-পরিদর্শক রায়হানুর রহমান বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি করেন। আসামিদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সিল, স্বাক্ষরসংবলিত লেটারহেড প্যাড জব্দ করা হয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। আদালতের আদেশের পর জাল নথি তৈরির চক্রের উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।