
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের জোড়া লাগা দুই শিশুকন্যা জয়নব ও উম্মে কুলসুম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে তাদের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার রাতে তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান পেশায় দোকান কর্মচারী। অর্থাভাবে সন্তানদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে তিনি ও তার স্ত্রী সানজিদা আক্তার একপর্যায়ে গ্রামে ফিরে যান। পরে শিশু দুটিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাদের ঢাকায় এনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, শিশু দুটির হৃদ্যন্ত্র একটি ছিল এবং সেখানে ছিদ্রও ছিল। তাদের শারীরিক অবস্থার জটিলতার কারণে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দুজনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালে গিয়ে শিশু দুটির খোঁজখবর নেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিশু দুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার নিয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বোর্ড গঠন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং অপারেশনসহ চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের কথাও জানানো হয়েছিল।
জানা যায়, প্রায় তিন মাস সাত দিন আগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু দুটির জন্ম হয়। জন্মের পর চিকিৎসা চললেও অর্থসংকটের কারণে পরিবারটি চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে গ্রামে ফিরে যায়। পরে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি উদ্যোগে তাদের ঢাকায় এনে চিকিৎসা শুরু করা হয়।
তবে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই দুই শিশুর মৃত্যু হলো। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।