
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, সারাদেশে চিহ্নিত ২৪ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডি অন ক্যামেরা সরবরাহ করা হবে, যাতে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি ও নজরদারি করা যায়।
শনিবার দুপুরে রংপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত একটি বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইজিপি বাহারুল আলম।
আইজিপি জানান, নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং এই প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে বডি অন ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, “বডি অন ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের ভেতরে ও আশপাশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে সহিংসতা প্রতিরোধের পাশাপাশি ভোটারদের আস্থাও বাড়বে।”
অবৈধ অস্ত্র প্রসঙ্গে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রতিনিয়ত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। তবে একসঙ্গে সব অস্ত্র উদ্ধার করা বাস্তবসম্মত নয়। “একটা একটা করে অস্ত্র ধরা পড়ছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে,”—বলেন তিনি।
কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং। পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সবাইকে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
আইজিপি বাহারুল আলম সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনগণের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি অন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।