
কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ক্লাব ক্যাভালরি এফসির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার শমিত শোম। এবার তার সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব নিউ ইয়র্ক কসমসের নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও এখনো শমিত কিংবা ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
গত জানুয়ারিতে ক্যাভালরি এফসির সঙ্গে তিন বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন শমিত। ২০২৬ মৌসুমের দলবদলের আগেই কানাডার ক্লাবটি তার বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর থেকেই নতুন ক্লাবের খোঁজে ছিলেন তিনি।
শমিতের সম্ভাব্য নতুন ক্লাব নিউ ইয়র্ক কসমস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের তৃতীয় স্তরে খেলছে। তবে ক্লাবটির ঐতিহাসিক পরিচিতি অনেক বড়। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এই দলের হয়ে খেলেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। পরে জার্মানির কিংবদন্তি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারও নিউ ইয়র্ক কসমসের জার্সি গায়ে মাঠ মাতিয়েছেন। ফলে এমন একটি ঐতিহাসিক ক্লাবে বাংলাদেশের কোনো ফুটবলারের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও শমিতের পথচলা ভিন্নধর্মী। ক্যারিয়ারের শুরুতে কানাডার জাতীয় দলের হয়ে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। পরে বাবা-মায়ের মাতৃভূমি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং লাল-সবুজ জার্সিতে খেলার সুযোগ পান।
২০২৫ সালের জুনে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয় শমিতের। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম গোলের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার মাস। হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন এই মিডফিল্ডার।
এখন নিউ ইয়র্ক কসমসে তার সম্ভাব্য যোগদান সত্যি হলে সেটি শমিতের ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তবে দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।