
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের পাশাপাশি আসন্ন ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। অভিন্ন জাতীয় স্বার্থ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার লক্ষ্যেই এসব আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়।
দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি তারেক রহমানকে ব্রিকসের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের একটি বিশেষ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও পৃথক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশনে’ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের এসব বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারি আরো শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি আন্তর্জাতিক পরিসরেও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক অংশীদারি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ও ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণ এসব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আরো বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে বিমসটেকের বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব দিতে পারে। ব্রিকসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর বিধান রয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশের নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
ভারতের এই আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রেও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আমন্ত্রণের পরবর্তী কার্যক্রম ও সফরের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।