
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও বিএনপি নেতা রায়হান কবিরকে (৪৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে আহত রায়হান কবিরের ছেলে মেহেদী হাসান সিংড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রায়হান কবির সিংড়া উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি হিজলি গ্রামের মৃত অফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং চলমান নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের সক্রিয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের সঙ্গে নির্বাচনী আলোচনা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিলতাজপুর এলাকায় রায়হান কবিরের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সমর্থক যুবদল নেতা সোহানুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে রায়হান কবিরকে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আহত রায়হান কবিরের ছেলে মেহেদী হাসান বলেন, তার বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি জানান, রায়হান কবিরের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার শিবলী নোমান বলেন, আহত ব্যক্তির পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত রায়হান কবির দাবি করেন, হিজলি গ্রামের রমজান আলী ও যুবদল নেতা সোহানুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে রহিদুল, আউয়াল, মিঠু ও ফরহাদসহ কয়েকজন এই হামলায় সরাসরি অংশ নেয়।
তবে অভিযুক্ত সোহানুর রহমান সোহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তার দাবি, এটি পারিবারিক বিরোধের ঘটনা, পরে সেটিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ বলেন, রায়হান কবিরকে রগ কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করার কারণে রায়হান কবির নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এখন আবার সহিংসতার মুখে পড়েছেন।
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, শুক্রবার রাতে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।