প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 10, 2026 ইং
ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষককে তল্লাশি ও অবরুদ্ধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাকসুর কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (দুপুর ১২টার দিকে) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
হেনস্তার শিকার ওই শিক্ষকের নাম হাসান মোহাম্মদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর। ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় তাঁর মুঠোফোনও তল্লাশি করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানকে দেখা যায়। একপর্যায়ে শিক্ষককে একটি অটোরিকশায় তুলে প্রক্টর কার্যালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রক্টর অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় হাসান মোহাম্মদ বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে তিনি পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হওয়ার কথা জানতে পারেন। এরপর তিনি কেন্দ্র ত্যাগ করলে কয়েকজন চাকসু নেতা তাঁকে ধাওয়া করেন। তাঁর অভিযোগ, এরপর তাঁকে ঘিরে ‘মব’ তৈরি করা হয়।
তবে চাকসু নেতারা শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত চলছিল। তদন্তাধীন অবস্থায় কেন তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন—এ প্রশ্ন তুলতেই তাঁরা আইন অনুষদের ডিনের কাছে যান। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পান বলে দাবি করেন তিনি।
একই বক্তব্য দেন চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান। তাঁর দাবি, শিক্ষককে মারধর করা হয়নি এবং দৌড়ানোর সময়ই তিনি আঘাত পান।
অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি কোনো আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন না, কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও অংশ নেননি এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেননি।
ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব প্রসঙ্গে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়কারী মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, কোনো শিক্ষক সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সে কারণেই তাঁকে পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং শিক্ষকের মুঠোফোন তল্লাশি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর বেতন স্থগিত রয়েছে। কীভাবে তিনি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা