
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রুশ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে চালানো এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, গাইডেড বোমা, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কিয়েভ, জাপোরিঝিয়া ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে হামলার খবর পাওয়া গেছে। জাপোরিঝিয়ায় রুশ হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ। হামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে আগুন লাগার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় রুশ ড্রোন ও কামান হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকজান্দর গানঝা। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী কিয়েভ ও জাপোরিঝিয়ার সামরিক-শিল্প স্থাপনা এবং পরিবহন কেন্দ্র লক্ষ্য করে উচ্চ-নির্ভুল ভূমিভিত্তিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
মধ্যরাতের কিছু পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলার আগে সতর্কতা জারি করা হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, হামলায় একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুন ধরে যায় এবং একজন আহত হন।
এদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে। ফলে রুশ হামলার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কিয়েভ। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইউক্রেনের দাবি, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তা রাশিয়াকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করছে। একই সময়ে রুশ বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা বাড়ায় ইউক্রেনের সীমিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়টসহ সীমিতসংখ্যক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর। তাই পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ও পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে কিয়েভ।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। ফলে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।