
আরবি ‘কারামাত’ শব্দের অর্থ সম্মান বা মর্যাদা। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহর কোনো নেককার বান্দার মাধ্যমে প্রকাশিত এমন অস্বাভাবিক বা অলৌকিক ঘটনাকে কারামাত বলা হয়, যার সঙ্গে নবুয়তের দাবি থাকে না। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা অনুযায়ী, আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের সম্মানিত করতে তাঁদের মাধ্যমে কারামাত প্রকাশ করতে পারেন এবং এ বিশ্বাস ইসলামী আকিদার অংশ।
কোরআনে কারামাতের একাধিক দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এর মধ্যে মারিয়াম (আ.)-এর কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অপ্রত্যাশিত খাদ্য পৌঁছানোর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। সুরা আলে ইমরানের ৩৭ নম্বর আয়াতে এ ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। একইভাবে সুলাইমান (আ.)-এর সামনে চোখের পলক ফেলার আগেই রানি বিলকিসের সিংহাসন উপস্থিত হওয়ার ঘটনাকেও আল্লাহর বিশেষ কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসহাবে কাহফের দীর্ঘ সময় গুহায় অবস্থানও ইসলামী ব্যাখ্যায় বিশেষ অলৌকিক ঘটনার অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসেও কারামাতের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সহিহ মুসলিমে এমন এক ব্যক্তির ঘটনা এসেছে, যার বাগানে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে বৃষ্টির পানি পৌঁছানোর ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তি তার উৎপাদিত ফসলের এক-তৃতীয়াংশ সদকা করতেন, এক-তৃতীয়াংশ নিজের ও পরিবারের জন্য রাখতেন এবং বাকি অংশ চাষাবাদ ও বাগানের উন্নয়নে ব্যয় করতেন।
তবে কারামাত ও মুজিজা এক নয়। নবীদের মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনাকে মুজিজা বলা হয় এবং তা নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে ওলির কারামাত সাধারণত কোনো দাবি বা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত থাকে না।
এ ছাড়া সব অলৌকিক ঘটনাকে কারামাত মনে করার সুযোগ নেই। ইসলামী জ্ঞানচর্চায় শয়তানের অনুসারী বা পাপাচারীদের মাধ্যমে প্রকাশিত অস্বাভাবিক ঘটনাকে কারামাতের পরিবর্তে ইস্তিদরাজ বা অন্য কোনো শয়তানি প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তাই কোনো ব্যক্তির অলৌকিক দাবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা জরুরি।