
দেশের একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সারা দেশের মানুষ এখন বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মতে, উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণের আশায় গোটা জাতি তারেক রহমানের নেতৃত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানের সূচনায় তিনি সাংবাদিক নেতাদের উদ্দেশে মন খুলে কথা বলার আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের সক্রিয় উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি বলেন, “বেশ কঠিন সময়ে তারেক রহমান দেশে এসেছেন। জনগণ তার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করছে। আজ দেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে।”
শুরুতেই মির্জা ফখরুল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন।
তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দূর থেকে হলেও ডিজিটাল মাধ্যমে তারেক রহমান যে বক্তব্যগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, তাতে মানুষ নতুন করে আশান্বিত হয়েছে। তার ভাষায়, এসব বক্তব্যে জনগণের মধ্যে একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, এবার সত্যিকার অর্থেই একটি উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাশা করছে, যা বাস্তবায়নে তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিজ বক্তব্যের শেষ দিকে মির্জা ফখরুল জানান, তিনি নিজে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার জন্য সেখানে উপস্থিত হননি। তিনি বলেন, “আজ আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই কথা বলবেন, আমরা সবাই তা শুনব।” তিনি আরও জানান, ঠাণ্ডাজনিত কারণে তারেক রহমানের কণ্ঠে কিছুটা সমস্যা থাকলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে তিনি আগ্রহী।
এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে একটি খোলামেলা মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।