
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিরক্ষা জোটের প্রভাবে ভারত ও ইসরাইলের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ হয়। দুই নেতা ভারত-ইসরাইলের ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেন। এরপরই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই জোট যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর বিকল্প একটি বাস্তবতা তৈরি করছে। এতে সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক ঘনিষ্ঠতা যেমন বাড়বে, তেমনি ভারত ও ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারে।
ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ পাকিস্তান তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তুরস্কও ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদার। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার সমন্বয় দিল্লির কৌশলগত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও ভারত সরকার ইসরাইলের সঙ্গে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তির খবর অস্বীকার করেছে, তবুও তুরস্ক-পাকিস্তান-সৌদি সমঝোতাকে তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে, এই নতুন সমীকরণের প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। ভারতের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর (IMEC) প্রকল্পে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্যদিকে, তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প আঞ্চলিক করিডোর প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফলে সৌদি-তুরস্ক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে আইএমইসি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা অবস্থান ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকেও আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে গ্রিস ও সাইপ্রাসের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতাও আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘মক্কা চুক্তি’ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো নয়, বরং ভারত-ইসরাইলের প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।