
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না, যা বাস্তবতা ও যুক্তির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশালের একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন গভর্নর। সভাটি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষাণ্মাসিকের মুদ্রানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ স্বল্প এবং সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় সরকারের মূল মনোযোগ এখন নির্বাচন আয়োজনকেন্দ্রিক। এমন পরিস্থিতিতে পে স্কেলের মতো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যৌক্তিক নয়। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না নির্বাচন-পূর্ব সময়ে পে স্কেল নিয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্তে যাবে।”
গভর্নর জানান, অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে একটি প্রাথমিক কাঠামো বা দিকনির্দেশনা রেখে যেতে পারে। তবে সেই কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচনের পর গঠিত সরকার আগের কাজ ও প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডিজিটাল লেনদেন প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে পারলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নানা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ছেঁড়া-ফাটা নোটের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। তিনি বলেন, নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে যদি কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেন আরও বাড়বে।
দেশের আমদানি নীতির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বর্তমানে আমদানি প্রক্রিয়া বেশ জটিল। সরকারি পর্যায়ে দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো আমদানি করা সম্ভব হয় না। এর ফল হিসেবে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং দাম বেড়ে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না থাকলে সাধারণ ভোক্তার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই আমদানি নীতিতে দক্ষতা বাড়ানো ও প্রক্রিয়াকে সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশীজনরা মুদ্রানীতি, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।