
কাজ সহজ করতে এআই এজেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ই-মেইল পাঠানো, তথ্য খোঁজা, টিকিট বুকিং কিংবা রেস্টুরেন্টে টেবিল সংরক্ষণের মতো কাজও এখন এসব সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা সম্ভব। তবে অস্ট্রেলিয়ার একটি সাম্প্রতিক ঘটনা দেখিয়েছে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে এআই এজেন্ট এমন সিদ্ধান্তও নিতে পারে, যা ব্যবহারকারী সরাসরি নির্দেশ দেননি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যক্তি জিমের একটি ক্লাসে নিজের জন্য জায়গা বুক করতে ওপেনক্ল নামের একটি এআই এজেন্ট ব্যবহার করেন। সফটওয়্যারটি অ্যানথ্রপিকের ক্লড এআই মডেল ব্যবহার করে।
প্রথমে ব্যবহারকারী শুধু জিমের একটি ক্লাস বুক করার নির্দেশ দেন। পরে তিনি জানতে চান, অপেক্ষমাণ তালিকায় নিজের অবস্থান আরও সামনে নেওয়ার কোনো উপায় আছে কি না। এরপর এআই এজেন্টটি জিমের বুকিং সিস্টেমের এপিআই পরীক্ষা করে।
এ সময় এআই এজেন্ট দেখতে পায়, অন্য ব্যবহারকারীর বুকিং বাতিল করার ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন যাচাই করা হচ্ছে না। সেই নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এটি অপেক্ষমাণ তালিকায় সামনে থাকা অন্য একজনের বুকিং বাতিল করে দেয়। এর ফলে ব্যবহারকারী তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে যান।
বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে যখন এআই নিজেই ব্যবহারকারীকে জানায় যে, অন্যের বুকিং বাতিল করার মাধ্যমে তার অবস্থান এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ব্যবহারকারী পরে এআইকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে বললেও বাতিল হওয়া বুকিং পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তবে ঘটনার পর এআই এজেন্ট নিজেই জিম কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি জানানোর জন্য একটি বার্তার খসড়া তৈরি করে দেয়। পরে ব্যবহারকারী সেই বার্তা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত কোনো এআই এজেন্টের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগানোর এটিই প্রথম আলোচিত ঘটনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি এআই এজেন্টের সক্ষমতা ও ঝুঁকি—দুই দিকই সামনে এনেছে। সাধারণ সফটওয়্যারের মতো শুধু নির্দেশ পালন না করে এআই এজেন্ট নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বা অন্যের ক্ষতির কারণ হলে দায় কার—ব্যবহারকারী, সফটওয়্যার নির্মাতা নাকি উভয়ের—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমন এআই এজেন্ট তৈরি করছে, যা মানুষের হয়ে অনলাইনে কেনাকাটা, টিকিট বুকিং, সময়সূচি নির্ধারণসহ নানা কাজ করতে পারে। ফলে এ ধরনের এজেন্টকে কতটা স্বাধীনতা দেওয়া হবে এবং তাদের কর্মকাণ্ডে কী ধরনের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ থাকবে—তা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।