
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকায় প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জেলহাজতে থাকা মেজর মো. সাদেকুল হককে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনে অসঙ্গতি থাকায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. চাঁদ আলীকে কারণ দর্শানোর জন্য তলব করেছেন আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তলবের আদেশ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকারটির মালিক মো. মনির হোসেন। গত বছরের ১১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাঁর পরিচিত চালক গাড়িটি ভাটারা থানাধীন বিটুমিন গেটের সামনে রেখে বাসায় চলে যান। পরদিন ১২ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে ৯৯৯ নম্বরে গাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে গাড়িটির প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ১৩ জুলাই ভাটারা থানার উপপরিদর্শক জ্যোতির্ময় মন্ডল বাদী হয়ে কয়েকজন এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ৩০০ থেকে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মেজর মো. সাদেকুল হককে এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, তৎকালীন সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে অগ্নিকাণ্ডটি ঘটানো হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাদেকুল হক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। তদন্তে এ ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
তবে আদালতের প্রশ্ন হলো, ঘটনার সময় তিনি আগে থেকেই জেলহাজতে বন্দি থাকা সত্ত্বেও কী কারণে এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।